Friday, April 17, 2026

বঙ্গ রাজনীতি – এপ্রিল ২০২৬

রাজনীতির ছাই বুঝি – তবু রাজনৈতিক অস্থিরতা মনকে বিচলিত করে। রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে মানুষকে বোকা বানাতে কার্পণ্য করে না। পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ বিধানসভা ভোট – ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। ভোট যত এগিয়ে আসছে তত কাদা ছোড়াছুঁড়ি প্রবল হচ্ছে। মানুষের ভোট পেয়ে সরকারে একটা দল আসে – কিন্তু মানুষকে সেবা দেওয়ার সময় মনে করে তারা মানুষকে করুণা করছে। আমার নিজস্ব কিছু মতামত আমি নিজের জন্যই লিখে রাখলাম।

তৃণমূল কংগ্রেস দল, যেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরী হয়েছে, সেটি পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম রাজত্ব্বের অবসান ঘটিয়ে। অনেক আশা নিয়ে পরিবর্তন এনেছিল পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তাঁর সরকার নিশ্চয়ই কিছু কাজ করেছে – কেননা পরের দুইবার অর্থাৎ ২০১৬ সালে এবং ২০২১ সালেও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁর দলকে সরকারে বসিয়েছে। তাঁর সরকারের মাধ্যমে রাজ্যে যতটা উন্নয়ন দেখা গেছে তা কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, স্বাস্থ্য সাথী, লক্ষ্মী ভাণ্ডার, ইদানীং যুবশ্রী, ইত্যাদি বলে আমার মনে হয়। কোনো জায়গার বা রাজ্যের উন্নতির প্রথম মাপকাঠি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে। সেইদিক দিয়ে সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট-কাম-মিন্স বৃত্তি, ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধে হয়েছে বলে মনে হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে অনলাইনে ভালো ভালো লেখা ভিডিও দেখে পড়াশুনা করতে পারে, বা পড়ার সুযোগ পায়, সেইহেতু মোবাইল ফোন/ট্যাব কেনার আর্থিক সংগতিও দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের উপকার হয়েছে – কত সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের উপকার হতে পারে – ১০%? এদিকে স্বাস্থ্যসাথীর জন্যও কিছু মানুষের যে উপকার হয়েছে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি। যে চিকিৎসা ব্যবস্থা সাধারণের আয়ত্ত্বের বাইরে, সেই ব্যবস্থা সাধারণ মানুষকে পেতে দেখেছি।

তবে রাজ্যের সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিবর্তন চাইছি। দুটো বিশেষ কারণে – সেও শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য। যে শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষকদের সম্মান দিতে পারে না, ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আকর্ষিত করতে পারে না – সেই শিক্ষা ব্যবস্থাতে অবশ্যই প্রশ্নচিহ্ন থাকছে। ২৬ হাজার চাকরি – ২৬ হাজার যুবক যুবতীর মন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে – দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। আমরা যারা এইরকম অনিশ্চয়তার পরিস্থিতির মধ্যে জীবনের কোনো না কোনো সময় কাটিয়েছি, তারা জানি এই উৎকণ্ঠা নিয়ে থাকা কি নিদারুণ কষ্টকর। কেন এই ভোগান্তি পোয়াতে হবে রাজ্যের প্রতিশ্রুতিমান যুবক-যুবতীদের? টাকা নিয়ে চাকরি? শিক্ষাকে সামনে রেখে অশিক্ষার চূড়ান্ত নিদর্শন? এবং যখন চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে – তাকেও আশ্রয় দেওয়া? এমন ব্যবস্থা যেমন একটা পরিবারের ছেলে মেয়েদের ভালো করতে পারে না – তেমনি একটা দলকেও তার দায়িত্ত্ব নিতে হবে। ক্ষমা স্বীকার করতে হবে। দম্ভ নিয়ে কত রাজা-ই তো আজ ইতিহাসের পাতায় – এই দলের দম্ভকেও ইতিহাসে স্থান দেওয়া প্রয়োজন – দম্ভ শেষে আবার ফিরে আসুক – তখন দেখা যাবে। এই দলের নেতাদের মধ্যে কিছু নৈতিকতার পঠন পাঠনের ব্যবস্থা আছে বলে কখনো মনে হয়নি। আমায় স্নেহ করেন এমন একজন বেশ কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, একজন Director General of Police (DGP) তাঁকে জানিয়েছিলেন যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বা পরিচালক যদি চান রাজ্যে চোর ডাকাত থাকবে না, তাহলে চোর ডাকাত থাকবে না।

শিক্ষা-র বেহাল পরিস্থিতির একটা চিত্র ধরা হল – এবার স্বাস্থ্যে আসি। আর জি কর যে ঘটনার সাক্ষী থেকেছে – তার বিচার চাই। জুনিয়র ডাক্তারদের যে হেনস্থা করা হয়েছে – তার বিচার চাই। এইটুকুর উত্তর পেলেই যথেষ্ট। একজন ডাক্তারকে (যাকে কি না সাধারণ মানুষ ঈশ্বরের পরে স্থান দিয়ে এসেছেন) কেন এই মর্মান্তিক পৈশাচিক মৃত্যুবরণ করতে হল – তার উত্তর দিতেই হবে। মুখে যদি না দাও – তাহলে তৈরী থাকো জনগণের দরবারে বিচার পাওয়ার। অবশ্য মানুষ কি যে চায় – তা বোঝা বড় কঠিন ...

মোদ্দা কথা – বিচার চাই। যে মানুষের আস্থায় তুমি সিংহাসনে বসে আছো – সেই মানুষকে এত অবহেলা?? মুখেই মা-মাটি-মানুষ?? মায়ের মেয়েদের সুরক্ষা নেই, বিচার নেই,- মাটির প্রতি শ্রদ্ধা নেই (শিল্প কোথায়? যুবক যুবতীরা ভিন রাজ্যেই বেশি সুখে রয়েছে...) আর মানুষকে ভিখারী-র পর্যায়ে নামিয়ে এনেছ – চাকরি কোথায়? সম্মান কোথায় (শ্রী-র নামে ভিক্ষা দিয়ে)??

দ্বিতীয় দল – ভারতীয় জনতা পার্টি (বি জে পি)
দলের manifesto দেখলাম। তাদের manifesto কোনো দিন সত্য হয়নি। ত্রিপুরাতেও দেখা গেছে – ইদানীং লাদাখে খুব ভালোভাবে দেখা গেছে – কেন না বিজ্ঞানী সোনাম ওয়াংচুকের মত শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরা যখন সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি বিচার চেয়েছেন – তখন তাঁর এবং সেইখানকার বাসিন্দাদের প্রতি যে অমানবিক (কেউ কি এখানে প্রশ্ন তুললেন - রাজনীতিতে আবার মানবিক হওয়া যায় নাকি?) ব্যবহারের প্রদর্শন হয়েছে – তা আর যাইহোক একটি গৃহের পক্ষে (পড়ুন দেশের পক্ষে বা দলের পক্ষে) সুখকর নয় – সেই গৃহের গৃহকর্তাকেও এর দায় নিতে হবে। আমার বারংবার মনে হয়েছে একটা গৃহ কেমন হবে তা অনেকটাই গৃহিণী বা গৃহকর্তীর ওপর বর্তায় – গৃহকর্তী যদি না ঠিক হয়, সংসার ভেঙে যায় (এখন বুঝে নিন, এই দলের ক্ষেত্রে কার কথা বলা হচ্ছে – সমঝদারোন কে লিয়ে ইশারা হি কাফী হোতা হ্যায়)। অনেক সময়ই আমার মনে হয়েছে তাঁর ওই ঔদ্ধত্য তাঁর দলকেই পিছিয়ে দিচ্ছে। যে দলকে অটল বিহারী বাজপেয়ীর মত ব্যক্তিত্ব একটা শক্ত ভীতের ওপর দাঁড় করিয়েছেন। আদর্শ যখন ব্যক্তি ছাড়িয়ে বিষয় হয়, তখন বিষয়ের মোহ আদর্শকে যথাযথ সময় বা শ্রদ্ধা দিতে পারে না – আদর্শকে ভুলিয়ে দেয়।

আর যে দল মনের মধ্যে আসছে – বাম দল। যে দেশকে (ভারতবর্ষের মত দেশকে) পরিচালনা করার জন্য অন্যদেশের থেকে দর্শন ধার করতে হয় – সেই দল আর যাইহোক দেশের উন্নতিতে খুব সাঙ্ঘাতিক একটা অবদান রাখতে পারে বলে আমি অন্তত বিশ্বাস করতে পারছি না। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন – কিন্তু নিজের দলের মধ্যেই ক্ষমতার ঔদ্ধত্যের স্থান দিয়েছেন – তাই একটা সময় পরে ভরাডুবি – অবশ্য তিন দশকে একটা পরিবর্তন হয়েছে । ভারতীয় এক মহাপুরুষের কথায় মানুষ বা জাতি বা দেশ যদি তার নিজস্ব সহজাত প্রকৃতির বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করে – সে কখনো তার শ্রেষ্ঠত্বে পৌঁছোতে পারে না – অর্থাৎ ভারতবর্ষ যদি তার সহজাত প্রকৃতি থেকে বেরিয়ে অগ্রসর হতে চায়, তা চলার পথে ব্যাঘাত ঘটাবে। এখন প্রশ্ন ভারতের সহজাত প্রকৃতি কি? ভারতবর্ষ পৃথিবীর মানচিত্রে কিসের জন্য বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে? পাঠক/পাঠিকা’র উত্তর কি?

বর্তমানে কংগ্রেস দলের যা অবস্থা, সেই দলের কথা আর নাই বা লিখলাম।

আগেই বলেছি, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই এক অপরের প্রতি কাদা ছুঁড়ছে। এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে কে কত নিজেদের বড় দেখাতে পারে/ কে কত ভালো দেখাতে পারে – এবং এই বড় বা ভালো দেখাতে গিয়ে অন্যকে ছোট/খারাপ দেখাতে হচ্ছে – মজার ব্যাপার, কেউই ধোয়া তুলসী পাতা নয়। তাহলে অন্যের খারাপ দিকটার দিকে না আঙুল তুলে নিজেদের নিজেদের যে শক্তি সেই দিকে জোর দাও না! ওতে দলের ভালো হবে, মানুষের ভালো হবে, রাজ্যেরও ভালো হবে --- সাধারণ মানুষ ভালো কিছু জানতে পারবে, দেখতে শিখবে, এবং সর্বোপরি একটা positive ভাব থাকবে --- অবশ্য তখন কি সেটাকে “রাজনীতি” বলা যাবে?? জানি না --- মনের ভাব প্রকাশ করলাম মাত্র।

মানুষের জয় হোক! মানবতার জয় হোক!

Thursday, April 16, 2026

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩

২রা বৈশাখ, ১৪৩৩; ১৬ই এপ্রিল ২০২৬ সাইটসোপেন, সোহরা, চেরাপুঞ্জি, মেঘালয় - ৭৯৩১০৮

শুভ নবশুভ নববর্ষ ১৪৩৩ !!

বছরের নতুন দিন। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে আমরা পা দিলাম।

দিন যত যায়, বাঙালী হিসেবে গর্ব অনুভব করি। বীর সুভাষচন্দ্র,বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী'দের মত স্বাধীনতা সংগ্রামী, শ্রীচৈতন্য, শ্রীরামকৃষ্ণের মত যুগাবতার, বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ,ঋষি অরবিন্দ'র মত যুগপ্রবর্তক, সাধক বামাক্ষ্যাপা, সাধক রামপ্রসাদ, ত্রৈলঙ্গস্বামী'র মত সাধক, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ-এর মত কবি, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়-এর মত সমাজ সংস্কারক, প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, জগদীশচন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বস-র মত বিজ্ঞানী, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত চট্টোপাধ্যায়, পঙ্কজ মল্লিক, নচিকেতা ঘোষ-এর মত সুরস্রষ্টা, উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত-এর মত অভিনয়শিল্পী, --- আরো কত স্বদেশখ্যাত, বিশ্ববিখ্যাত মানব এই মাটিতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলা'কে বিশ্ব মানচিত্রে একটা পরিচিতি দিয়েছেন।

নতুন বছর হৃদয়ে নতুন আশার দিশা দেয় - "নতুন" শব্দটার মধ্যেই কেমন একটা positivity আছে। নতুন বই, নতুন জামা, নতুন আসবাব, নতুন বাড়ি, নতুন গাড়ি, এমনকি নতুন জীবন – যখনি “নতুন” শব্দ কোনও শব্দের আগে বসেছে, তখনই একটা উৎসাহ মনের মধ্যে উঁকি দিয়েছে – এগিয়ে চলার বার্তা দিয়েছে। আমরাও, তাই নতুন বছরে পদার্পণ করে, জীবনের উদ্দেশ্য পূরণে, নতুন উদ্যমে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে চলবো – এই হোক আমাদের সম্মিলিত শপথ। “সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে” – এই উদ্দেশ্যেই জীবন আবর্তিত হোক –
ওঁ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ,
সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ।
সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু,
মা কশ্চিদ্ দুঃখ ভাগভবেৎ।।
ওঁ শান্তিঃ শান্তিঃ শান্তিঃ
"
--- বৃহদারণ্যক উপনিষদ-এর এই মহামন্ত্র সকলের জীবনেই প্রতিষ্ঠিত হোক, এই প্রার্থণা করি।

নতুন বছরের প্রতিটি দিন প্রত্যেকের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে আনুক এই শুভেচ্ছা এবং প্রার্থণা রইলো। পুরনো বছরের অনেক স্মৃতি সুখ-স্মৃতি হয়ে থাকে আবার অনেক স্মৃতি দুঃখেরও হয়। কিছু হারানোর ব্যথা, কাঊকে হারানোর দুঃখ, কিছু সংগ্রামের আকস্মিকতা – এইগুলি যদি একজনের জীবনকে চিরন্তন সত্যের মুখোমুখি ফেলে কঠিন সত্যে প্রতিষ্ঠিত করে, তবে কিছু মানুষের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া, কিছু নতুন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত এবং যুক্ত হওয়া – এইগুলি একজনের জীবনকে নতুন রঙে রাঙিয়ে দেয়। তেমনি এই ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রতিটি দিন প্রত্যেকের জীবন নতুন নতুন রঙে রেঙে উঠুক – এই প্রার্থণা করি।

সকলের জয় হোক!!

২০১৭ সালের নববর্ষের বার্তা-র লিঙ্ক নীচে দেওয়া থাকলো :)
https://subhendumaity.blogspot.com/2017/04/blog-post.html

Monday, February 16, 2026

১১ পূর্ণ - ১২য় পা

ঐশীর জন্মদিনে খড়্গপুর যাব কি যাব না‌ ভাবছিলাম... ভাবতে ভাবতেই দিন‌পার হয়ে যায় - এটি‌ আমার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাবতে ভাবতেই এতো সময় অতিবাহিত হয়, যে অনেক বাজে খরচ বেড়ে যায়। ভাববার কারণ - ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি,‌ বিলাসপুরে অবস্থিত গুরু ঘাসিদাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ওয়ার্কশপে‌ যেতে হবে। নতুন একটা কোর্সও নিতে হচ্ছে। তা ছাড়া এক পি. এইচ. ডি ছাত্রের রেজিস্ট্রেশন সেমিনার, অন্য ছাত্রের গবেষণার কাজ ঠিকমতো দেখে জার্নালে পাঠানো, ইত্যাদি - শারীরিক ধকল তো আছেই!

ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে জন্মের সময়ও আমি অর্পিতা বা ঐশীর পাশে ছিলাম না। শীলং থেকে ফেরার পথে, কোমরের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে কলকাতায় ডাক্তার দেখিয়ে হাওড়াতে পৌঁছনোর‌ পরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম কোন দিকে যাবে - খড়্গপুরের বাড়িতে নাকি কুলটির বাড়িতে (প্রথমটি বাপের বাড়ি, দ্বিতীয়টি শ্বশুরবাড়ি)। যেহেতু ঐশীর জন্মানোর সময় ৯-১০ দিন পরে নির্দিষ্ট ছিল,‌ মনে হয়েছিল খড়্গপুরের বাড়িতে ২-৩ দিন বিশ্রাম নিলে, কুলটিতে গিয়ে Deliveryর পরে যে ধকল হবে, সেটি‌ সামলাতে সুবিধা হবে। এই ভেবেই ঐদিন সন্ধ্যায় খড়্গপুরে ফিরি। খড়গপুরে এসে পৌঁছেছি, আর ফোন এলো অর্পিতাকে নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছে - patient-কে observation-এ রাখবে। পরের দিন সকালে খবর এলো - মেয়ে হয়েছে। 

শিশু জন্মানোর সময় স্ত্রীর পাশে না থাকতে পারার দুঃখ চিরজীবন রয়ে যাবে। মেয়ের জন্মদিনে‌ তাদের পাশে থাকার চেষ্টা তো করা যেতেই পারে - তাতে শারীরিক যে ধকল‌ হবে, সেটি না‌ হয়, জন্মের সময় না‌ থাকার যে অনিচ্ছাকৃত গ্লানি বয়ে বেড়াতে হয়, সেটির কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত হল। 😊...

এবং ইচ্ছা যতদিন পারবো, এই দিনটায় (১৬ই ফেব্রুয়ারি) ওদের পাশে থাকবো। অবশ্য, ১৫ই ফেব্রুয়ারি যেহেতু আমাদের (কুলটির অন্যতম ঘোষ পরিবারের অরুণ ঘোষ মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ কন্যা, অর্পিতার সঙ্গে,‌২০১৪ সালে, আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই) বিবাহ বার্ষিকী, সেই হেতু একই সাথে এই বিশেষ দুটি দিনে তাদের সঙ্গে থাকতে পারলে যে পূণ্য সঞ্চয় হবে, সেটিতেও আশাকরি কিছু প্রায়শ্চিত্ত হবে 😁। এই বছর (২০২৬) আবার ঐদিন শিবরাত্রি - পাশে থাকলে (অবশ্য ঘরেই ছিলাম) মাথায় জল ঢালতে বা প্রার্থণায় বেশি মনোনিবেশ হবে 😊।

              ১ - দাদুর আশীর্ব্বাদ  
              ২ - ঠাকুমার আশীর্ব্বাদ  
              ৩ - মায়ের আশীর্ব্বাদ  
              ৪ - দুপুরের আয়োজন

Tuesday, September 10, 2019

মন রে কৃষি কাজ জানে না

মন বড় বদমাস । আমাদের আনন্দের কাছে কিছুতেই ঘেঁষতে দেয় না... আবার মন-ই কখনও সখনও পরম বন্ধু হয়ে যায় । কারণ মনের জোরেই অনেকে অনেক miracle করে থাকে - । কিন্তু শরীর দুর্বল হলে, মন পেয়ে বসে । সূক্ষ্ম আকারে বিরক্ত করতে থাকে এবং আমাদের স্বরূপ যে আনন্দ তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় ।

সকালে ঘুম থেকে উঠে থেকে রাত্তিরে শোয়া পর্যন্ত কতরকম কাজের (ঈশ্বরের কাজ?) মধ্যে জড়িয়ে থাকি, কিন্তু তবুও দেখো মন আনন্দে থাকে না । এক এক সময়, এইরকম হয়, মন একটা জিনিসই কেবল চায় । যেমন ধর, খিদে পেয়েছে, আমার এক্ষুণি খাবার চাই । ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা যখন বায়না করে - হাত পা ছুঁড়ে বায়না করে । তখন বাবা মা ধমক দেয় বা অন্য দিকে "মন" ঘুরিয়ে দেয় যাতে করে খেলনা'র ওপর থেকে মন চলে যায় । তেমনি আমাদের "কাঁচা" "মন" ঐরকম বায়না গুলি প্রত্যহ করে । যদি সেই বায়না গুলি থেকে মন ঘোরানো না যায়, তবে শরীর হাত পা ছুঁড়ে আরও অস্থির করে তোলে (বাচ্চা হাত পা ছুঁড়লে, বাবা মা অস্থির হয়ে অনেক কিছু করে দেয় ।)

মোট কথা, মনের "দুষ্টু" ইশারাতে না সাড়া দিয়ে আনন্দের দিকে নিরন্তর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা । 😊

সেই অস্থিরতা বা চঞ্চলতা কে দূর করার জন্যই মন কে অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়া - যেমন কোনো গল্প বলা - বা মজা করা বা আবৃত্তি করা বা গান করা/শোনা, ইত্যাদি ইত্যাদি ।

সেইটি যেইখানেই থাকি, সেইখানেই বসে করলেই আনন্দ ধীরে ধীরে ধরা দেয় । একটু ধৈর্য লাগে আরকি... মন ব্যাটা ঐ জায়গাটাতে আরো চেপে বসে - ঐ যে সময় (ধৈর্য রূপে) লাগে - সে দেখে - এর মধ্যেই ওকে (আনন্দকে) আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে হবে নাহলে "দুষ্ট" আমি হেরে যাব । এই জেতা হারা'র খেলায় নিয়ে যায় । অথচ সে ("দুষ্ট" মন) ভুলে যায়, যে সে যার ("আনন্দ")  সঙ্গে লড়তে/লড়ে যাচ্ছে, সে ("আনন্দ") এই হার-জিতের ওপরে বাস করে এবং তার ("দুষ্ট" মনের) এই খেলায় হেসে ফেলে । গেয়ে ওঠে "এমন মানব জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা" ।

তাই আমাদের- সর্বক্ষণ  এইটাই চেষ্টা করা উচিৎ - আনন্দম শুধু আনন্দম ।

যখন যেখানে থাকি - আনন্দম শুধু আনন্দম ।

Wednesday, September 4, 2019

শুভ শিক্ষক দিবস

আজ ভারতবর্ষে শিক্ষক দিবস । প্রকৃতপক্ষে আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে এইটুকু শিখেছি যে আপনার চারপাশে যা কিছু আছে, যা কিছু ঘটছে, তা সব কিছুই আপনার জীবনেরই অঙ্গ - একটি ছাপ রেখে যায় জীবনে । এর মধ্যে অনেক কিছুই আপনার এগিয়ে যাওয়ার পথে পাথেয় হয়ে দাঁড়ায় । এর মধ্যে যে সকল ব্যক্তি আপনাকে জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিয়মিত সাহায্য করে - বিশেষত: পঠন পাঠনে - তাঁদের'কে আমরা শিক্ষক বলে প্রণাম জানাই । কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যা ছাড়াও একজন ব্যক্তি তার চারিপাশে'র অনেক মানুষকে কাছ থেকে দেখে এবং অনেক সময়ে অনেক কিছুই শেখে । সেই অর্থে - "শিক্ষক" শব্দটিকে ছোট্ট একটি গণ্ডির মধ্যে বা শুধুমাত্র এক শ্রেনীর মানুষের মধ্যে যদি বেঁধে রাখি, তবে আমার মনে হয় "শিক্ষক" শব্দের মধ্যে যে অসীম আবেদন - সেইটিকে সংকুচিত করা হবে । আর আমি আজীবন ছাত্র থেকে সবার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বিশেষ আগ্রহী - আপনি/আপনারা আমার শ্রদ্ধাপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করছেন - আর আমি আনন্দ পাচ্ছি - এই চিত্রই আমার হৃদয়ে গ্রথিত হোক ।

প্রণাম । ভালো থাকবেন ।
শুভেন্দু

আমি তাঁকেই আদর্শ শিক্ষক বলব যাঁর সঙ্গে আপনার পরিচয় তথা ভাবের আদান প্রদান তাঁর প্রতি আপনাকে বিশেষ আকর্ষণ করে - আপনাকে এক উন্নত মানবে পরিণত করতে উৎসাহিত করে, সাহায্য করে বা পরিণত করে । আমার জীবনে এমন বহু মানুষ-ই আছেন (মনীষীদের কথা ছেড়েই দিলাম) - সর্ব প্রথম আমার মা-শ্রীমতি আলপনা মাইতি ও বাবা-শ্রী দুর্যোধন মাইতি, দাদা-শ্রী সঞ্জীব মাইতি, বৌদি- শ্রীমতি আলোচনা মাইতি, শিক্ষক দেবব্রত গুহ, অধ্যাপক দেবব্রত সেন, অধ্যাপক হরি ওয়ারিয়ার, অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, অধ্যাপক সন্দীপন ঘোষ মৌলিক, অধ্যাপক গৌতম সাহা, অধ্যাপক সোমনাথ ভরদ্বাজ, অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতী সেন, অধ্যাপক নিশীথ মণ্ডল, সুনীল মহারাজ, সুদীপ্ত ঘোষ মহাশয়, ডাক্তার অভিজিৎ হাজরা, ডাক্তার নির্মল সোম,ডাক্তার সচ্চিদানন্দ আচার্য, শ্রী কাঞ্চন শীল, - অনেক নাম-ই  অলিখিত রয়ে গেল... ।

Saturday, April 15, 2017

শুভ নববর্ষ ।

“জগতে আনন্দযজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ,
ধন্য হল, ধন্য হল মানবজীবন ।” –
হ্যাঁ, এই মানবজীবনেই তো অনুভব করতে হবে যে এ মানবজীবন ধন্য । আসুন, আমরা সেই বস্তু, কর্ম, জ্ঞান সন্ধানে ব্রতী হই যা আমাদের সেই উপলব্ধি দিতে বা করাতে পারবে । ‘সন্ধান’ শব্দটা যখনই আমাদের কানে আসে, তখনই ‘আগামী’ সময়ও তার মধ্যে চলে আসে । ‘আগামী’ – অর্থাৎ যে সময়টা নতুন । সেই নতুন সময় তার নিজের মধ্যে নিহিত রাখে এক গভীর বার্তা –
“পুরানো না থাকলে নতুন কি?
লড়াই না থাকলে জীতব কি?
জ্ঞান না থাকলে বলব কি?
সঙ্কল্প না থাকলে করব কি?
ভালবাসা না থাকলে ভালবাসব কি?”

নতুন বছরের  নতুন নতুন দিনগুলো আপনার, আপনার পরিবারের, আপনার নিকটজনের জীবনে নতুন বার্তা বয়ে আনুক এই প্রার্থণা করি । আসুন, আমাদের নতুন নতুন সময়গুলোকে  নতুন নতুন রূপে উপভোগ করি । সবাই মিলে গেয়ে উঠি “তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে” ।
শুভ নববর্ষের প্রথম দিনে গুরুজনদের জানাই প্রণাম, বন্ধুবর্গদের ও ছোটদের জানাই প্রীতি ও শুভেচ্ছা এবং সব্বাইকে জানাই আন্তরিক ভালবাসা ।


শুভ নববর্ষ ১৪২৪ ।। ভাল থাকবেন ।। আনন্দে থাকবেন ।।

Song - Let all my love be directed towards you

Wednesday, April 5, 2017

জয় মা ! (Victory to Mother!)

Yesterday got a message and an urge crept up to read it.. Yesterday was Annapurna puja - the goddess who takes care of one's basic needs to feed him/her

My Holy Mother - Prof. Maroofi Khan

Also an apt song was recalled and was sung..

Song - Mother