ভাবতে ভাবতেই মনে পড়ে জন্মের সময়ও আমি অর্পিতা বা ঐশীর পাশে ছিলাম না। শীলং থেকে ফেরার পথে, কোমরের যন্ত্রণায় কাতর হয়ে কলকাতায় ডাক্তার দেখিয়ে হাওড়াতে পৌঁছনোর পরে স্টেশনে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম কোন দিকে যাবে - খড়্গপুরের বাড়িতে নাকি কুলটির বাড়িতে (প্রথমটি বাপের বাড়ি, দ্বিতীয়টি শ্বশুরবাড়ি)। যেহেতু ঐশীর জন্মানোর সময় ৯-১০ দিন পরে নির্দিষ্ট ছিল, মনে হয়েছিল খড়্গপুরের বাড়িতে ২-৩ দিন বিশ্রাম নিলে, কুলটিতে গিয়ে Deliveryর পরে যে ধকল হবে, সেটি সামলাতে সুবিধা হবে। এই ভেবেই ঐদিন সন্ধ্যায় খড়্গপুরে ফিরি। খড়গপুরে এসে পৌঁছেছি, আর ফোন এলো অর্পিতাকে নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়েছে - patient-কে observation-এ রাখবে। পরের দিন সকালে খবর এলো - মেয়ে হয়েছে।
শিশু জন্মানোর সময় স্ত্রীর পাশে না থাকতে পারার দুঃখ চিরজীবন রয়ে যাবে। মেয়ের জন্মদিনে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা তো করা যেতেই পারে - তাতে শারীরিক যে ধকল হবে, সেটি না হয়, জন্মের সময় না থাকার যে অনিচ্ছাকৃত গ্লানি বয়ে বেড়াতে হয়, সেটির কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত হল। 😊...
এবং ইচ্ছা যতদিন পারবো, এই দিনটায় (১৬ই ফেব্রুয়ারি) ওদের পাশে থাকবো। অবশ্য, ১৫ই ফেব্রুয়ারি যেহেতু আমাদের (কুলটির অন্যতম ঘোষ পরিবারের অরুণ ঘোষ মহাশয়ের জ্যেষ্ঠ কন্যা, অর্পিতার সঙ্গে,২০১৪ সালে, আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই) বিবাহ বার্ষিকী, সেই হেতু একই সাথে এই বিশেষ দুটি দিনে তাদের সঙ্গে থাকতে পারলে যে পূণ্য সঞ্চয় হবে, সেটিতেও আশাকরি কিছু প্রায়শ্চিত্ত হবে 😁। এই বছর (২০২৬) আবার ঐদিন শিবরাত্রি - পাশে থাকলে (অবশ্য ঘরেই ছিলাম) মাথায় জল ঢালতে বা প্রার্থণায় বেশি মনোনিবেশ হবে 😊।
২ - ঠাকুমার আশীর্ব্বাদ
No comments:
Post a Comment