Tuesday, September 10, 2019

মন রে কৃষি কাজ জানে না

মন বড় বদমাস । আমাদের আনন্দের কাছে কিছুতেই ঘেঁষতে দেয় না... আবার মন-ই কখনও সখনও পরম বন্ধু হয়ে যায় । কারণ মনের জোরেই অনেকে অনেক miracle করে থাকে - । কিন্তু শরীর দুর্বল হলে, মন পেয়ে বসে । সূক্ষ্ম আকারে বিরক্ত করতে থাকে এবং আমাদের স্বরূপ যে আনন্দ তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় ।

সকালে ঘুম থেকে উঠে থেকে রাত্তিরে শোয়া পর্যন্ত কতরকম কাজের (ঈশ্বরের কাজ?) মধ্যে জড়িয়ে থাকি, কিন্তু তবুও দেখো মন আনন্দে থাকে না । এক এক সময়, এইরকম হয়, মন একটা জিনিসই কেবল চায় । যেমন ধর, খিদে পেয়েছে, আমার এক্ষুণি খাবার চাই । ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা যখন বায়না করে - হাত পা ছুঁড়ে বায়না করে । তখন বাবা মা ধমক দেয় বা অন্য দিকে "মন" ঘুরিয়ে দেয় যাতে করে খেলনা'র ওপর থেকে মন চলে যায় । তেমনি আমাদের "কাঁচা" "মন" ঐরকম বায়না গুলি প্রত্যহ করে । যদি সেই বায়না গুলি থেকে মন ঘোরানো না যায়, তবে শরীর হাত পা ছুঁড়ে আরও অস্থির করে তোলে (বাচ্চা হাত পা ছুঁড়লে, বাবা মা অস্থির হয়ে অনেক কিছু করে দেয় ।)

মোট কথা, মনের "দুষ্টু" ইশারাতে না সাড়া দিয়ে আনন্দের দিকে নিরন্তর নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা । 😊

সেই অস্থিরতা বা চঞ্চলতা কে দূর করার জন্যই মন কে অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়া - যেমন কোনো গল্প বলা - বা মজা করা বা আবৃত্তি করা বা গান করা/শোনা, ইত্যাদি ইত্যাদি ।

সেইটি যেইখানেই থাকি, সেইখানেই বসে করলেই আনন্দ ধীরে ধীরে ধরা দেয় । একটু ধৈর্য লাগে আরকি... মন ব্যাটা ঐ জায়গাটাতে আরো চেপে বসে - ঐ যে সময় (ধৈর্য রূপে) লাগে - সে দেখে - এর মধ্যেই ওকে (আনন্দকে) আরও কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে হবে নাহলে "দুষ্ট" আমি হেরে যাব । এই জেতা হারা'র খেলায় নিয়ে যায় । অথচ সে ("দুষ্ট" মন) ভুলে যায়, যে সে যার ("আনন্দ")  সঙ্গে লড়তে/লড়ে যাচ্ছে, সে ("আনন্দ") এই হার-জিতের ওপরে বাস করে এবং তার ("দুষ্ট" মনের) এই খেলায় হেসে ফেলে । গেয়ে ওঠে "এমন মানব জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা" ।

তাই আমাদের- সর্বক্ষণ  এইটাই চেষ্টা করা উচিৎ - আনন্দম শুধু আনন্দম ।

যখন যেখানে থাকি - আনন্দম শুধু আনন্দম ।

Wednesday, September 4, 2019

শুভ শিক্ষক দিবস

আজ ভারতবর্ষে শিক্ষক দিবস । প্রকৃতপক্ষে আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে এইটুকু শিখেছি যে আপনার চারপাশে যা কিছু আছে, যা কিছু ঘটছে, তা সব কিছুই আপনার জীবনেরই অঙ্গ - একটি ছাপ রেখে যায় জীবনে । এর মধ্যে অনেক কিছুই আপনার এগিয়ে যাওয়ার পথে পাথেয় হয়ে দাঁড়ায় । এর মধ্যে যে সকল ব্যক্তি আপনাকে জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিয়মিত সাহায্য করে - বিশেষত: পঠন পাঠনে - তাঁদের'কে আমরা শিক্ষক বলে প্রণাম জানাই । কিন্তু পুঁথিগত বিদ্যা ছাড়াও একজন ব্যক্তি তার চারিপাশে'র অনেক মানুষকে কাছ থেকে দেখে এবং অনেক সময়ে অনেক কিছুই শেখে । সেই অর্থে - "শিক্ষক" শব্দটিকে ছোট্ট একটি গণ্ডির মধ্যে বা শুধুমাত্র এক শ্রেনীর মানুষের মধ্যে যদি বেঁধে রাখি, তবে আমার মনে হয় "শিক্ষক" শব্দের মধ্যে যে অসীম আবেদন - সেইটিকে সংকুচিত করা হবে । আর আমি আজীবন ছাত্র থেকে সবার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বিশেষ আগ্রহী - আপনি/আপনারা আমার শ্রদ্ধাপূর্ণ প্রণাম গ্রহণ করছেন - আর আমি আনন্দ পাচ্ছি - এই চিত্রই আমার হৃদয়ে গ্রথিত হোক ।

প্রণাম । ভালো থাকবেন ।
শুভেন্দু

আমি তাঁকেই আদর্শ শিক্ষক বলব যাঁর সঙ্গে আপনার পরিচয় তথা ভাবের আদান প্রদান তাঁর প্রতি আপনাকে বিশেষ আকর্ষণ করে - আপনাকে এক উন্নত মানবে পরিণত করতে উৎসাহিত করে, সাহায্য করে বা পরিণত করে । আমার জীবনে এমন বহু মানুষ-ই আছেন (মনীষীদের কথা ছেড়েই দিলাম) - সর্ব প্রথম আমার মা-শ্রীমতি আলপনা মাইতি ও বাবা-শ্রী দুর্যোধন মাইতি, দাদা-শ্রী সঞ্জীব মাইতি, বৌদি- শ্রীমতি আলোচনা মাইতি, শিক্ষক দেবব্রত গুহ, অধ্যাপক দেবব্রত সেন, অধ্যাপক হরি ওয়ারিয়ার, অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী, অধ্যাপক সন্দীপন ঘোষ মৌলিক, অধ্যাপক গৌতম সাহা, অধ্যাপক সোমনাথ ভরদ্বাজ, অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতী সেন, অধ্যাপক নিশীথ মণ্ডল, সুনীল মহারাজ, সুদীপ্ত ঘোষ মহাশয়, ডাক্তার অভিজিৎ হাজরা, ডাক্তার নির্মল সোম,ডাক্তার সচ্চিদানন্দ আচার্য, শ্রী কাঞ্চন শীল, - অনেক নাম-ই  অলিখিত রয়ে গেল... ।